বাংলা
সরকারের শেষ সময়ে ও ভোট পরবর্তী সহিংসতা বা হঠাত করেই সংখ্যালঘু(?) সম্প্রদায়ের উপর হামলা, জংগীবাদ এর উত্থান বা সুপরিকল্পিত ভাবে
জংগীবাদকে উপস্থাপন(বা একধরনের Impose), সরকারের ঘৃন্য রাজনীতিরই একটি বহিঃপ্রকাশ। আর এর মাধম্যে বহিঃবিশ্বের একটা মনোযোগ আকর্ষন ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা। একজন সচেতন ও স্বাধীন নাগরিক হিসাবে আমি সংখ্যালঘু(!) শব্দটাকে একটি সাম্রদায়িক হিসাবে দেখি। একজন স্বাধীন নাগরিক মাত্রই যেকারোর অধিকার আছে তার স্বাধীন ধর্মকর্ম করার স্বাধীনভাবে বেচে থাকার।আর এদেরকে নির্যাতন তো একদমই সমর্থন করি না এবং তীব্র ভাবে ঘৃনা করি সে যেই করুক আর যেকোনো দেশেই ঘটুক।
ধরে নেয়া যাক বি এন পি বা জামায়াত সব সবসময় সংখ্যালঘুদের(?) উপর নির্যাতন করত বা করেছে। আর বি এন পির শাসন আমলে সংখ্যালঘুরা(?) বেশি অনিরাপদ। তো এই সরকারের আমলে যে এতগুলো হ্যাঁ এতগুলো হামলা বা ভাংচুর হলো তার কোনো সুষ্ট বিচার হয়েছে বা কেউ আজ পর্যন্ত ধরা পড়েছে? আর একটা জিনিস বুঝতে হবে যে, সংখ্যালঘুদের(?) উপর হামলা করে কারা বেশী সুবিধা নিয়েছে? কারা এটাকে ইস্যু তৈরি করেছে? কারা এটাকে ব্যবহার করছে? কোনদল এটাকে ব্যবহার করে বেশি সুবিধা নিচ্ছে? আর কোনদলকে সবসময় দায়ী করা হয় এবং তাদেরই বা লাভ কি সংখ্যালঘুদের(?) নির্যাতন করে?
এই জামাত-শিবির হলো যুদ্ধাপরাধীর দল। তাদের সকল-কর্মী এমন কি যাদের একাত্তরে জন্মও হয়নি তাঁরাও সন্ত্রাসী, তাঁরাও যুদ্ধাপরাধীদের দোসর। তাঁরা সবাই ছাগু এবং ছাগুদের নিধন করা জায়েজ আছে। তাঁদের কিভাবে জেলে ভরা হচ্ছে, রিমান্ড-এ নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে এইগুলা কোনো শিক্ষিত এবং স্বাধীনতার চেতনায় বুঁদ হয়ে থাকা মানুষের চিন্তার বিষয় না। কিন্তু ওই একই জামাত-শিবির যখন প্রতিশোধ-পরায়ন হয়ে আওয়ামী-লীগ এর লোকদের আক্রমন বা হত্যা করবে তখন সেইটা হবে জঙ্গীবাদ, মৌলবাদী গোষ্ঠীর স্বরূপ - তাই তাঁদের অচিরেই মূল-সহ উজাড় করতে হবে। দেশে কোনো অমুসলিম সম্প্রদায়ের উপর হামলা হলে সেইটা নিঃসন্দেহে প্রমান-ব্যতিরেকে অবশ্যই জামাত-শিবির-এর কাজ। বিশেষ করে এইসব অভিযোগ যখন নিরপেক্ষ এবং সত্যের ধারক ও বাহক বিডিনিউজ, প্রথম আলো, বিটিভি খ্যাত একাত্তর টিভি ইত্যাদি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। কথায় কথায় এই সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের(?) উপর হামলার জন্য বার বার বি এন পি বা শিবির কে দায়ী করা হয়। তো আওয়ামীলীগ আমলেও যদি সংখ্যালঘুরা নিরাপদ না থাকে তবে কার আমলে থাকবে? বিএনপির ২০০১ শাসনামলে সংখ্যালঘুদের উপর হামলায় বিএনপি
বি এন পি বা শিবির যদি সত্যি হামলা করে সংখ্যালঘুদের(?) তার বাসা থেকে তাড়িয়েও দেয় তো আপনাদের কি মনে হয় বি এন পি বা শিবির ঐ বাসা বা সম্পদ দখল বা লোটপাট করতে পারবে আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগ বা যুবলীগ এর কাছ থেকে? তাহলে কি আশায় বিএনপি এই সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালাবে। শিবির যে কখনো হামলা করে নাই তা অস্বীকার করছি না। কিন্তু যেখানে শিবির নিজেদের গা বাঁচাতে ব্যস্ত সেখানে কেন তারা অন্যের উপর হামলা করে নিজেরা দোষের ভাগীদার হবে বা জনগণের ধিক্কারের ভাগীদার হবে? আর জামায়াত-শিবির এটাও জানে যে তারা কখনো হিন্দু বা সংখ্যালঘুদের ভোট পাবে না তবে কেন তারা এ কাজটা করবে, আমার কাছে অন্তত এটা বোধগম্য নয়। যেখানে সারা দেশে কোনো ভোটই হয়নি বা ভোট পড়লেও ৮- ১২% অথবা সর্বোচ্চ ১৫% ভোট কাষ্ট হয়েছে। সার্বিকদিক বিবেচনা করলে বিএনপি-জামায়াত জোটেরই জয় হয়েছে(যদি তারা এটা চেয়ে থাকে)। সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। সেখানে সংখ্যালঘুদের(?) উপর হামলা বা নির্যাতন এর কি দরকার আছে বিএনপি-জামায়াত জোটের। নাকি এটা এমন নয় যে তৃতীয় কেউ বা আওয়ামীলীগই এটা করছে যাতে বি এন পি বা শিবির এর উপর দোষ চাপানো যায় ও বৈদেশিক চাপকে মোকাবেলা করা যায়। নইতো এতগুলো হামলার ঘটনাই কেন বিরোধী জোটের একজনও গ্রেফতার হল না? আর বেশিরভাগ হামলায় রাতের বেলা সংঘটিত হত কেন, মালপত্রই বা কেন কেড়ে নেই না, লুটপাটও তো সংঘটিত হচ্ছে না। আর মাঝে মধ্যেই ও বা যারা ধরা পড়ছে জনগনের কাছে তারাও তো আওয়ামীলীগ এর। যেমনঃ বগুড়া শেরপুরে শহীদ মিনারে আগুন দেয়া অবশায় ধৃত আওয়ামীলীগ কর্মীকে পাগল বলে আবার ছাড়িয়েও দেয়া হয়েছ, সুত্রঃ মানবজমিন, একুশে টিভি। সাতক্ষিরায় সংখ্যালঘুদের(!) বাড়িতে আগুন দিতে গিয়ে ধৃত এক আওয়ামীলীগ নেতা ও দুই কর্মীসহ তিনজন, সুত্রঃ সকল জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেল। গত পড়শুদিন ৬-০১-১৪ তারিখে স্কুলের আসবাব পত্রে আগুন দেয়া অবস্থায় ধৃত আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রধান শিক্ষক এখন গনপিটুনী এড়িয়ে পুলিশ হেফাজতে সুত্রঃ সকল জাতীয় দৈনিক।সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানো বাসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার মুর্হতে পুলিশ কতৃক গ্রেফতার কৃত তিনজন আওয়ামীলীগ এর কর্মী। তারপরে ঢাকা-নরসিংদির বাসে আগুন তাও আবার আজিমপুরে(প্রমানিত নয় কারা করেছে কিন্তু, সন্দেহ যে বাসটা কেন আজিমপুরে)।দিনাজপুরে(জায়গাটা মনে নেই) হিন্দুদের মূর্তিভাংগা্র পড় জনগন কতৃক ধৃত দুইজন আওয়ামিলীগ কর্মী । সুত্রঃ মানবজমিন। পাবনার সাঁথিয়ায় হিন্দুদের বাড়িতে সরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কর্মীর অগ্নিসংযোগ। সুত্রঃ সকল জাতীয় দৈনিক। সুতরাং এতগুলো ঘটনা কি এখনো মানুষকে ভাবায় না যে কারা এ কাজ টা করছে আর কি উদ্দেশ্যে করছে? আর তাই বোধহয় বি এন পি এজন্য সংকিত ছিল বলেই হিন্দু বা সংখ্যালঘুদের(?) পাহারার কথা বলেছিল। আর সুষ্ঠতদন্ত করতে বলেছিল। সংখ্যালঘু(?) ভাইদের কে একটু বিশেষ ভাবে বিশ্লেষন করার জন্য অনুরোধ করছি। কারণ আওয়ামীলীগ তো সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিবে বলেই তো ক্ষমতায় এসেছিল। তাদের কাছেও যদি সেই নিরাপত্তা না পায় তাহলে আর কার কাছে? নাকি তারা বার বার আওয়ামীলীগের ছলনার স্বীকার হচ্ছেন আর বার বার ব্যবহৃত হচ্ছেন, অত্যাচারিত হচ্ছেন।
তাই বিএনপি ও এর জোটের সকল নেতাকর্মী ভাই ও বোনদের এবং সকল মুসলিম ভাইদেরকে বলব, আপনারা আপনাদের নিজ নিজ এলাকায় হিন্দু বা সংখ্যালঘুদের(?) পাহারা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা করুন। যখন রাষ্ট্রযন্ত্র অত্যচারী হয়ে উঠে তখন জনগণকেই এগিয়ে আসতে হয় তা এই অত্যাচার এর মোকাবেলা করার জন্য।
ই-মেইলঃ jsclbd@gmail.com
Leave your comment