বাংলা
বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধ্রুব সত্য টা কি? বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু, পরিশ্রমী, শান্তিপ্রিয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে উদ্বুদ্ধ এবং একই সাথে মুসলিম প্রধান। কিন্তু মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র হিসাবে, এখানে ধর্মীয় সংখালঘুদের সার্বিক অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষার অবস্থা তুলনামূলক ভাবে পার্শ্ববর্তী সকল প্রতিবেশী দেশের তুলনায় অনেক উন্নত। পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টান, মিয়ানমারে মুসলিম, শ্রীলঙ্কাতে মুসলিম রা নানা ভাবে নির্যাতিত ও নিপীড়িত।
কিন্তু তারপর ও নির্দ্বিধায় বলা যায়, আমাদের দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ চরম আতংকেই থাকে। একটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের মানুষ হিসাবে জানি, কিভাবে হিন্দু পরিবার গুলো যুগের পর যুগ কম মূল্যে তাদের ভিটা বাড়ি বেঁচে দিয়ে হিন্দু দেশ ভারতে চলে গেছে। কিন্তু, ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ গুলো ভারতে কখনো তাদের মর্যাদা পায়নি। কারণ, আমাদের জানা হিন্দু ধর্মের জাত প্রথা, আর পশ্চিমবঙ্গের কৃত্রিম নাক উঁচু ভাব। কে না জানে তারা কেমন কৃপণ তাদের আচরণে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মারা গেলে আমাদের পত্রিকা, নিউজ একজন ভালো বাংলা সাহিত্যিককে মর্যাদা দিতে কুন্ঠা বোধ করে নি। অথচ, হুমায়ূন আহমদের প্রস্থানে তারা ন্যূনত্বম ভদ্রতাও দেখাতে পারেননি।
তাই আমাদের দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কষ্টটা বোঝা দরকার আমাদের সবাইকে। রাতের বেলা তাদের টিনের চালে ঢিল মারা, আর কিশোরী মেয়েটা কে পথে ঘাঁটে ভয় দেখানো শক্ত ভাবে জাতীয়তাবাদী মুসলিমদের প্রতিরোধ করতে হবে। শুধু এই একটি ভয়কে কাজে লাগিয়ে যুগের পর যুগ আওয়ামিলিগ হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করছে। স্বাভাবিক ভাবেই হিন্দু প্রধান দেশ ভারত আমাদের হিন্দু ভাইদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বরাবরই মূলত আওয়ামিলিগকে বিরামহীন সাপোর্ট করছে।
ভারতের সম্ভাব্য নির্বাচনে বিজেপি এর ক্ষমতা আরোহণ এখন সময়ের ব্যাপার। কট্টর হিন্দুবাদী এই দলের রণনীতি বিএনপি এর জন্য সহায়ক হবার কথা নয়। যেখানে ভারতের শক্তিশালী গোয়েন্দা বাহিনী "র" এবং পররাষ্ট্র প্রশাসনে আওয়ামিলিগের গভীর যোগাযোগ, ভারতীয় হাই কমিশনের সাথে আওয়ামিলিগের গলাগলি সেখানে বিএনপি এর দেখা যাক কি হয় নীতি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলছে। এমন "রি-একটিভ" রাজনীতি বিএনপি কে শেষ করে দিবে, যা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। বিএনপি এর রাজনীতি এখন "প্রো-একটিভ" হওয়া দরকার। আওয়ামি সরকার যেমন গত ৫ বছরে একটার পর একটা মিডিয়া বাজি (ভয়ংকর) কাণ্ড ঘটিয়েছে। বিএনপি কেও এখন একটার পর একটা মিডিয়া বাজ (সুন্দর) কাণ্ড ঘটাতে হবে।
সব থেকে সুন্দর মিডিয়া কাণ্ড আর কি হতে পারে, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সংখ্যালঘু দল" করার থেকে? বাবু গয়েশশর চন্দ্র কে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি করে এই অঙ্গসংগঠন টা শুরু করা এবং একটা মহাসম্মেলন করে দলের পদ হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ভাইদের মধ্যে জনসংখ্যার এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে ভাগ করে দেয়া হতে পারে বেশ একটা দীর্ঘ সময়ের জন্য সেকুলার প্রধান মিডিয়ার "ডার্লিঙ"। এতে করে এক সাথে এত গুলো গোষ্ঠী খুশি হবেঃ হিন্দু-খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ ভাইরা, ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর, গোয়েন্দা বাহিনী "র", বিজেপি, আরএসএস, তৃণমূল কংগ্রেস, ইত্যাদি। আর বাবু গয়েশশর চন্দ্র ছাড়াও এক দল সাহসী সংখ্যালঘু মানুষ তখন এই সরকারের শক্ত সমালোচনার সুযোগ পাবে। দীর্ঘ মেয়াদে আওয়ামী সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক ও ভেঙ্গে পড়বে। সেই সাথে ভেঙ্গে যাবে ভারত ও মিডিয়ার সাথে আওয়ামী গলাগলি।
Leave your comment