পৃথিবীর যেকোনো দেশে, যেকোনো সময় অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিশ্বরাজনীতি বা দেশীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার লড়াইটা বহু পুরোনো।

আর এই ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে যুগে যুগে বহু মানুষকে প্রান দিতে হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে আরো বহুগুন। জন্ম নিয়েছে বহু সৈরাচারী, অত্যাচারী ও জালিম সরকার। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ও নিয়তির খেলায় প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে ধংস হয়েছে বা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত হয়ে আছে।আমাদের দেশেও এই ক্ষমতার লড়াই বিদ্যমান কেউ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অথবা কেউ যেকোনো মুল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। যদিও আমরা এটিকে তথাকথিত গনতন্ত্র বলে চালিয়ে দিচ্ছি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ যারা নিজেদেরকে গণতান্ত্রীক বা দেশে গণতন্ত্র(পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্বাবদ্ধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে) প্রতিষ্ঠা করেছে বলে দাবী করে, তারা আজ গণতন্ত্রের কথা বলে সারাদেশের (নিরীহ বলছি না কিন্তু ভিন্ন বা বিরোধী মতাদর্শের)মানুষের উপর কি নির্মম অত্যচার চালাচ্ছে, কত মানুষকে যে খুন-গুম করছে তার কোনো হিসাব আছে। শুধু মাত্র সাঈদী রায় পরবর্তী সহিংসতায় যে ১৭৩ বা ১৭৪ জন মারা গেল তাদের কারো জন্য কি দেশের কোনো থানায় একটাও মামলা দায়ের করা হয়েছে? বিচার তো পরের বিষয়। শাপলা চত্তরে দেশের নিরীহ আলেম-ওলামা ও কচিকাঁচা মাদ্রাসার ছাত্রদের ডেকে এনে (সমাবেশ এর অনুমতি দিয়ে) রাতের অন্ধকারে দেশের ইতিহাসে যে জঘন্যতম হত্যাকান্ড চালানো হল তার জন্য কি আজও কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বা কোনো হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে? তাহলে কোথায় মানবিকতা, কোথায় মানবাধিকার। এক লিমনকে র‌্যাব তার পায়ে গুলি করেছিল(অবশ্যই নিন্দ্যনীয়)-সে মারাও যায়নি, শুধু তার পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে, তাই নিয়ে মানবাধিকার কমিশন ও দৈনিক প্রথমআলো দিনের পর দিন বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতি ও সংবাদ পরিবেশন করেছে। কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ মিজ়ানুর রহমান বিভিন্ন সভা-সেমিনারে কেঁদেছেন পর্যন্ত। অথচ ফেব্রুয়ারী থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এতগুলো হত্যাকান্ডের জন্য কোনো টু শব্দটি পর্যন্ত করেন নাই এই কমিশন। এই যদি হয় আমাদের মানবাধিকার কমিশন তাহলে কোথায় মানবতা তা আজ বড় প্রশ্ন!

যাইহোক, এবার আসা যাক নির্বাচনকালিন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য একমাত্র এবং এককভাবে দায়ী বর্তমান সরকার বা সরকার প্রধান। তিনি তার একক সিধান্ত বলে এই জটিলতার সৃষ্টি করেছেন। তিনি তার হীন রাজনৈতিক সুবিধা চরিতার্থ করার জন্য এই সিধান্ত গ্রহন করেছেন। তিনি যেখানে বিচারপতি কে এম হাসান কে তত্বাবদ্ধায়ক সরকারের প্রধান হিসাবে মানতে নারাজ ছিলেন যিনি কিনা ততকালীন সংবিধান অনুযায়ী সঠিক ব্যক্তি ছিলেন। তারপরেও তিনি তার বিবেকবোধ থেকে অনুধাবন করেছিলেন বলেই সে পদে বসতে বিব্রতবোধ করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী কি করে ভাবলেন যে তিনি একজন স্বীয় দলের প্রধান হয়ে তার অধীনে নির্বাচন করতে হবে এবং তা সুষ্ঠ হবে, আর বিরোধী দল সেগুলোকে মেনে নিয়ে নির্বাচনে যাবে। বিভিন্ন আওয়ামী ঘরানার সুশীল ব্যক্তিরা এটাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটাকে বিভিন্ন ভাবে যুক্তিতর্ক দিয়ে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন, যে এটা খুব ভাল পদ্ধতি, এটা ছাড়া গণতন্ত্র টিকে না। আর কতদিন এভাবে অনির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন চলবে। প্রতিবার এই নির্বাচন এর আগে তত্বাবদ্ধায়ক সরকার প্রধান নিয়ে সংঘাত আর কতদিন চলবে ইত্যাদি ইত্যাদি। যদি তাই হয় তাহলে ধরে নিতে হবে যে এই পঞ্চদশ সংশোধনী নির্বাচন পুর্ব শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠার জন্য করা হয়ে ছিল। কিন্তু বাস্তবে কি তা দেখা যাচ্ছে! উলটো এই সংশোধনীর মাধ্যমে আরও শান্তি-শৃংখলা বিগ্নিত করা হচ্ছে। তাহলে কেন এই সংশোধনী আর কেনই বা এই গোঁ ধরে বসে থাকা যেটা এই সরকারই প্রবর্তন করেছিল। তারমানে কি তারা যখন যা ইচ্ছা হবে তাই করবে। 

তত্বাবধায়ক বনাম শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে সর্বদলীয় সরকারঃ
তত্বাবধায়ক সরকারের জন্ম হয়েছিল তখন যখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন তার গ্রহনযোগ্যতা হারিয়েছিল। বর্তমানে যেখানে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক(!) ব্যবস্থায় নেই পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ, আস্থা ও বিশ্বাস এবং সর্বপুরি হিংসা-বিদ্বেস, হানাহানী এতটায় গুরুতর যে যেখানে সর্বদলীয় নির্বাচন করাই অতি কষ্টসাধ্য। সেখানে শেখ হাসিনাকে প্রধান রেখে তো দুরের কথা।

আওয়ামীলীগ ও বামঘরানার কিছু দল বার বার গলাবাজি করে বলার চেষ্টা করছে যে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব ও সংবিধান অনুযায়ী অধীনেই নির্বাচন করতে বার বার বিরোধী দলকে বলা হচ্ছে। আরও বলা হচ্ছে যে এই অনির্বাচিত ও নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের দ্বারা সম্ভব নয়।তারা(তত্বাবধায়ক সরকার) নির্বাচনে সুক্ষ বা স্থুল কারচুপী(!) করে বা করেছে।

তর্কের খ্যাতিরে আবারও বলছি তর্কের খ্যাতিরে ধরেই নিলাম তত্বাবধায়ক সরকার সুক্ষ বা স্থুল কারচুপী করে বা করেছে, আমার প্রশ্ন হল এই কারচুপীটা তারা কেন বা কার জন্য করে বা করেছে? অবশ্যই তারা কোনো না কোন দলের হয়ে বা দলের জন্য করেছে। যদি তাই করে অবশ্যই তারা অনেক বাধাঁ-বিপত্তির মধ্যে এবং অতি সীমিত আকারে করেছে বা করতে পেরেছে। এখন আসি সর্বদলীয় ব্যবস্থায় যেখানে দলীয় প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী রেখে নির্বাচন হবে তাতে কতখানি দুর্নীতি, কারচুপী হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেকোনো সুষ্ঠচিন্তার মানুষ মাত্রই সহজেই আনুমান করতে পারে। আবার কিছু কিছু আওয়ামী সুশীল ব্যক্তিরা বলে থাকেন যে সুস্থ গনতন্ত্রের ধারা ফিড়িয়ে আনতে নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া এর বিকল্প নেই। তো এটা নৈতিক দিক থেকে কতটা গ্রহনযোগ্য যখন তারা এই দাবীটা সরকারী দলে থেকে করছেন। আবার কেউ কেউ বলবেন যে এখন না হলে কখন? বিচারপতি খায়রুল হকের রায় মেনে নিয়েও যদি পরবর্তী দুইটার্ম অনির্বাচিত তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা হয় তাহলে কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? তাদের কে শুধু একটা উদাহরন দিতে চাই আমাদের স্বাত্থ্যমন্ত্রী এ এফ এম রুহুল আমিন এমপি গতবছর মেডিকেল পরীক্ষার আগে ঘোষনা করেছিলেন যে এইবার থেকে রেজাল্টের ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তি নেয়া হবে আর সাথে সাথে সারা দেশে শিক্ষাথীসহ সুশীল সমাজ় সবাই এর বিরোধীতা করেছেন আর বলেছেন তাদের কে এই কথাটা আরো দুইবছ্র আগে বলা হলো না কেন, যেন তারা সেইভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে। ফলে দ্রূত সে পদক্ষেপ তুলে নেয়া হয় আর শিক্ষাথীরা হঠাত চাপিয়ে দেয়া পদ্ধতি থেকে মুক্তিপায়। তেমনি আরো দুইটার্ম অনির্বাচিত ও নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন করলে বিএনপি, আওয়ামীলীগ সহ সবদলই আগে থেকে প্রস্তূত থাকতে পারত যে আগামী দুইটার্ম এর পরে কি ধরনের সরকার আসবে।

সরকার আসলে বিভিন্ন ভাবে মানুষকে বোকা বানাতে চাচ্ছে বা সাধারন মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে নিতে চাচ্ছে। এই সরকারের বিগত বছর গুলোতে যে মহামারী আকারে দুর্নীতি ও লোটপাট হয়েছে তা বিগত যেকোনো সরকারের চেয়ে প্রায় শতগুন বেশি। এক শেয়ারবাজার কেলেংকারীর মাধ্যমে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে সরিয়ে ফেলা, এছাড়া সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও আরও কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কারচুপির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা সরিয়ে ফেলা। কালো বিড়াল, কুইকরেন্টাল বা পদ্মা সেতুর দুর্নীতি সহ, বড় বা উল্লেখযোগ্য কোনো হত্যা মামলা যেমন- সাগর-রুনী হত্যা, বিশ্বজিত হত্যা, পিলখানার ম্যাসাকার কোনোটার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার না হওয়া, সর্বোচ্চ সংখায় ফাঁসীর আসামীকে মুক্তি দেয়া এসব থেকেই মুক্তি পেতে আজ সর্বদলীয় সরকারের নামে আওয়ামী দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে চাচ্ছে। আর সংলাপের নামে বিরোধীদলীয় আন্দোলনকে খুব সুক্ষ ও সচেতন ভাবে স্থীমিত করার একটা ব্যর্থ প্রয়াশ চালাচ্ছে। নির্বাচনকালীন সংকট নিরসনে সাধারন জনগন ও বুদ্ধিজীবীদের চাপে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেত্রীকে সংলাপে বসার জন্য ফোনে নিমন্ত্রন জানায়। সেখানে দুই নেত্রীর মধ্যে এক পর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। বিরোধীদলীয় নেত্রী অনেকটায় একচেটিয়া(Dominative) উত্তর দিয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী খুব সচেতন ভাবে একই প্রশ্ন বার বার করে(লাল টেলিফোন ডেড নাকি বন্ধ করে রাখা হয়েছে) অথবা ১৫ই আগষ্ট, ২১শে আগষ্ট সহ আরও পুরোন কিছু প্রশ্ন করে এবং ঐ ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করে উত্তপ্ত করেছেন। আর নিজে চুপচাপ ও শান্তভাবে তার প্রতিক্রিয়া শুনছেন। বাস্তবে কি তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেই চুপচাপ বা শান্তভাবে সহ্য করে বসে থাকার মানুষ? নাকি এটাকে একটা পূর্বপরিকল্পিত(preplanned) ফোনোগেট(kind of Watergate) করার ইচ্ছা ছিল? যেখানে আমাদের বুক ফাটে তবুও তাঁর(প্রধানমন্ত্রীর) মুখ ছোটে, সেখানে কিভাবে উনি তার স্বভাববিরুদ্ধ আচরন করলেন তা এখন মানুষকে ভাবায়। সংগত কারনেই এটা অনুমান করা যায় যে সরকারের প্লানটায় ছিল শেষ মুহুর্তে ফোনটা করে বিএনপিকে দুইদিক দিয়ে ট্রাপে ফেলা একঃ হরতাল বাতিল নতুবা দুইঃ হরতাল বাতিল না হলে ফোনের আলাপচারিতা প্রকাশ করে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়া। আর সংলাপ সেতো সুদুর পরাহত। Good strategy!! অন্যদিকে আবার বিএনপি শেষদিনের হরতাল বা শেষ ১২ ঘন্টার হরতাল তুলে নিয়ে ২৯ অথবা ৩০ তারিখে সংলাপের তারিখ প্রস্তাব করলে রাজনৈতিকভাবে অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকত এবং আওয়ামীলিগের রাজনৈতিক পরাজয় হত।

জঙ্গিবাদ ও সংখালঘু প্রসংগঃ

সরকারের এই শেষ সময় এসে হঠাত করেই জংগীবাদ এর উত্থান বা সুপরিকল্পিত ভাবে জংগীবাদকে উপস্থাপন(বা একধরনের Impose) করেছেন যাতে বহিঃবিশ্বের একটা মনোযোগ আকর্ষন ও সমর্থন আদায় করতে পারেন। একজন সচেতন মানুষ হিসাবে আমি সংখ্যালঘু নির্যাতন একদমই সমর্থন করি না। সে যেই করুক।

ধরে নেয়া যাক বি এন পি সব সবসময় সংখ্যালঘুদের(?) উপর নির্যাতন করত বা করেছে। আর বি এন পির শাসন আমলে সংখ্যালঘুরা(?) বেশি অনিরাপদ। তো এই সরকারের আমলে যে এতগুলো হ্যা এতগুলো হামলা বা ভাংচুর হলো তার কোনো সুষ্ট বিচার হয়েছে বা কেউ আজ পর্যন্ত ধরা পড়েছে? জামাত-শিবির হলো যুদ্ধাপরাধীর দল। তাদের সকল-কর্মী এমন কি যাদের একাত্তরে জন্মও হয়নি তাঁরাও সন্ত্রাসী, তাঁরাও যুদ্ধাপরাধীদের দোসর। তাঁরা সবাই ছাগু এবং ছাগুদের নিধন করা জায়েজ আছে। তাঁদের কিভাবে জেলে ভরা হচ্ছে, রিমান্ড-এ নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে এইগুলা কোনো শিক্ষিত এবং স্বাধীনতার চেতনায় বুঁদ হয়ে থাকা মানুষের চিন্তার বিষয় না। কিন্তু ওই একই জামাত-শিবির যখন প্রতিশোধ-পরায়ন হয়ে আওয়ামী-লীগ এর লোকদের আক্রমন বা হত্যা করবে তখন সেইটা হবে জঙ্গীবাদ, মৌলবাদী গোষ্ঠীর স্বরূপ - তাই তাঁদের অচিরেই মূল-সহ উজাড় করতে হবে। দেশে কোনো অমুসলিম সম্প্রদায়ের উপর হামলা হলে সেইটা নিঃসন্দেহে প্রমান-ব্যতিরেকে অবশ্যই জামাত-শিবির-এর কাজ। বিশেষ করে এইসব অভিযোগ যখন নিরপেক্ষ এবং সত্যের ধারক ও বাহক বিডিনিউজ, প্রথম আলো, একাত্তর টিভি ইত্যাদি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া কথায় কথায় এই সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের(?) উপর হামলার জন্য বার বার  বি এন পি বা শিবির কে দায়ী করা হয়।  বি এন পি বা শিবির যদি সত্যি হামলা করে সংখ্যালঘুদের(?) তার বাসা থেকে তাড়িয়েও দেয় তো আপনার কি মনে হয় বি এন পি বা শিবির ঐ বাসা বা সম্পদ দখল করতে পারবে আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগ বা যুবলীগ এর কাছ থেকে? শিবির যে কখনো হামলা করে নাই তা অস্বীকার করছি না।  কিন্তু যেখানে শিবির নিজেদের গা বাঁচাতে ব্যস্ত সেখানে কেন তারা অন্যের উপর হামলা করে নিজেরা  দোষের ভাগীদার হবে বা জনগণের ধিক্কারের ভাগীদার হবে? আর জামায়াত-শিবির এটাও জানে যে তারা কখনো হিন্দু বা সংখ্যালঘুদের ভোট পাবে না তবে কেন তারা এ কাজটা করবে, আমার কাছে অন্তত এটা বোধগম্য নয়। অথবা এটা কি এমন নয় যে তৃতীয় কেউ বা আওয়ামীলীগই এটা করছে যাতে বি এন পি বা শিবির এর উপর দোষ চাপানো যায়। নইতো এতগুলো হামলার ঘটনাই একজনও গ্রেফতার হল না। আর বেশিরভাগ হামলায় রাতের বেলা সংঘটিত হয়েছে কেন, মালপত্রই বা কেন কেড়ে  নেই না, লুটপাটও তো সংঘটিত হচ্ছে না। আর দু-একজন যা ধরা পড়েছে তারাও তো আওয়ামীলীগ এর। তাদেরকে পাগল বলে আবার ছাড়িয়েও দিয়েছেন। বি এন পি এজন্য সংকিত ছিল বলেই হিন্দু বা সংখ্যালঘুদের(?) পাহারার কথা বলেছিল। সংখ্যালঘু(?) ভাইদের কে একটু বিশেষ ভাবে বিশ্লেষন করার জন্য অনুরোধ করছি। কারণ আওয়ামীলীগ তো সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিবে বলেই তো ক্ষমতায় এসেছিল। তাদের কাছেও যদি সেই নিরাপত্তা না পায় তাহলে আর কার কাছে? নাকি তারা আওয়ামীলীগের ছলনার স্বীকার হচ্ছেন আর বার বার ব্যবহৃত হচ্ছে।